খেলা

‘তবে মনে তো অবশ্যই ছিল’

প্রশ্ন: একটু আগে ফোনে সেমিফাইনালে ওঠার প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়ায় প্রথম যে শব্দটা আপনি বললেন, সেটা হলো ‘অবিশ্বাস্য’। যে মুহূর্তে জানলেন সেমিফাইনালে উঠে গেছেন, আপনার অনুভূতিটা আসলে কেমন ছিল? কোথায় ছিলেন তখন?

মাশরাফি বিন মুর্তজা: আমি হোটেলের দিকে হেঁটে আসছিলাম…একা একা। সকালে বাচ্চারা চলে গেল, মনটা একটু খারাপ ছিল। ‘অবিশ্বাস্য’ বলেছিলাম, কারণ আমরা যে গ্রুপটা পেয়েছিলাম, সেখান থেকে সেমিফাইনালে যাওয়াটা সহজ ছিল না। একে তো আমরা র‍্যাঙ্কিংয়ে নিচে, তার ওপর আবার এই কন্ডিশন। অন্য গ্রুপে যারা ছিল তাদের সবার জন্যই কন্ডিশন একই রকম ছিল-কঠিন। কিন্তু আমাদের গ্রুপের বাকি তিন দলের জন্য এটা অনেকটাই চেনা। আমাদের হয়তো ভাগ্যও একটু সাহায্য করেছে, তারপরও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচটা তো আমাদের জিততেই হতো। আমার ধারণা, টুর্নামেন্টের শুরুতে ৯৯ শতাংশ মানুষ, এমনকি বাংলাদেশের মানুষের কথাও যদি বলেন, কেউ মন থেকে বিশ্বাস করেনি যে বাংলাদেশ সেমিফাইনালে খেলবে। সে জন্যই বলেছি, এটা আমাদের জন্য অবিশ্বাস্য একটা ব্যাপার।

প্রশ্ন: দেশে থাকতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফি নিয়ে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, ‘মনে বড় একটা চিন্তা আছে।’ আবার এটাও বলেছিলেন, ‘কোনো কিছুই অসম্ভব নয়।’ এই টুর্নামেন্ট নিয়ে আপনার ভাবনাটা আসলে কী ছিল?

মাশরাফি: দেখুন, অস্ট্রেলিয়ার মতো অনেক দল আছে, যারা ম্যাচের আগে অনেক কিছু বলে। আমাদের এই আছে, আমরা ওই করব। এটা ওদের ধরন। আমার কাছে মনে হয়, এগুলো স্রেফ বড় বড় কথা। মাঠে আমি কেমন খেলছি, এর ওপরই সবকিছু ঠিক হয়। আমার খেলোয়াড়ি জীবনেই আমি কখনো এ ধরনের কথা বলিনি, বলা আমার পছন্দও না। মনে যেটা আছে, সেটা তো আছেই। আমি বললাম, আমরা সেমিফাইনালে যাব, কিন্তু যেতে পারলাম না, জিনিসটা কেমন হলো? আমাদের সুযোগ আছে, আমরা ভালো খেলে যাব। এটা বলাই শ্রেয়। তবে মনে তো অবশ্যই ছিল। জানতাম, কঠিন, তবে এমন তো না যে অসম্ভব। ওই বিশ্বাসটা আমার মনে ছিল।

প্রশ্ন: অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বৃষ্টির কারণে পাওয়া ১ পয়েন্ট কাজে এসেছে। আবার এটাও তো সত্যি, শেষ ম্যাচে দুই দলেরই জয় দরকার ছিল। বাংলাদেশ পেরেছে, অস্ট্রেলিয়া পারেনি…

মাশরাফি: ঠিক, আমাদের জন্য যে রকম সমীকরণ ছিল, অস্ট্রেলিয়ার জন্যও তো সে রকমই ছিল। অস্ট্রেলিয়ার বরং সুবিধা ছিল, এই কন্ডিশন ওদের মুখস্থ, ওদের এমন কিছু খেলোয়াড় আছে, যারা সেকেন্ডের মধ্যে ম্যাচ ঘুরিয়ে দিতে পারে। আস্কিং রেট আটে থাকলেও। আমাদের হয়তো আস্কিং রেট ৮ হয়ে গেলে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার মতো খেলোয়াড় নেই। আস্কিং রেট ৬ হয়ে গেলে হয়তো আমরা পারব। কিছুদিন আগেও আমরা বড়জোর ২৩০-২৪০ তাড়া করা সম্ভব মনে করতাম। এখন এই কন্ডিশনেও মনে করি, প্রতিপক্ষকে তিন শর মধ্যে রাখতে পারলে জেতা সম্ভব। মানসিকতার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গেই এগুলো আস্তে আস্তে হয়ে যাবে। আমরা সুযোগ নিতে পেরেছি, এটাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

প্রশ্ন: ২০১৫ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনাল আর চ্যাম্পিয়নস ট্রফির সেমিফাইনাল-এই দুটির যদি তুলনা করতে বলি…

মাশরাফি: মঞ্চ যদি বলেন, বিশ্বকাপ সব সময়ই আলাদা। তবে চ্যাম্পিয়নস ট্রফিও কোনো অংশে কম না। বিশ্বকাপে ‘কাম ব্যাক’ করার সুযোগ থাকে। কারণ অনেকগুলো ম্যাচ। সেটা বড় দলের বিপক্ষে হলেও। এখানে কোনো সুযোগই নেই। এক সপ্তাহের মধ্যে তিনটি ম্যাচ শেষ। ভাবারও সুযোগ নেই, দলও বেশি নেই। ওই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে এটার গুরুত্ব একটু বেশি।

0.00 avg. rating (0% score) - 0 votes

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।